পরপর ৩ জুমা বাদ গেলে কি মুসলিম কাফের হয়ে যায়? 

অনলাইন ডেস্ক।নিউজ পোর্টাল ।

তারিখ, ১৯.০৬.২৬





পরপর ৩ জুমা বাদ গেলে কি মুসলিম কাফের হয়ে যায়?  ।
ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবার। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বিবেচিত এই দিনে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম মুসলিম পুরুষদের জন্য ফরয জুমার নামাজ। আল্লাহ তাআলা উম্মতে মোহাম্মদীর পূর্বের জাতিবর্গকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমরা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠতম দিনে আমার জন্য বিশেষ একটি ইবাদত কর।


জুমার দিনের গুরুত্ব এতটাই যে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনুল কারিমে একটি সুরাই নাজিল করেছেন। সুরাটিতে জুমার দিনের ইবাদত সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন- হে ঈমানদারগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা জুমুআ : আয়াত ৯)


এমন কথাও প্রচলিত আছে, পরপর তিনটি জুমার নামাজ যদি কোনো মুসলিম ছেড়ে দেয়, তাহলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় বা কাফের হয়ে যায়।


তবে, ইসলামে এমন পরিণতির কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই।   

ইসলামি আলেমদের মতে, শুধু পরপর তিন জুমা না পড়লেই কোনো ব্যক্তি মুসলিম থেকে কাফের হয়ে যায়—এমন কথা সরাসরি হাদিসে উল্লেখ নেই। কিন্তু, অবহেলা ও গাফিলতির কারণে একের পর এক জুমা ছেড়ে দেওয়া ভয়াবহ গুনাহের কাজ এবং এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবার্তা এসেছে।


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা জুমার নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন—

উচ্চারণ: ইয়া আইয়ুহাল্লাজিনা আমানু ইজা নূদিয়া লিস সালাতি মিন ইয়াওমিল জুমুআতি ফাসআউ ইলা জিকরিল্লাহি ওয়া জারুল বাই‘আ, জালিকুম খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম তালামুন।


অর্থ: “হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।”
—সুরা জুমুআহ, আয়াত: ৯


কবরের আযাব থেকে বাঁচাবে যে ছোট্ট আমল 
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন—

“যে ব্যক্তি অবহেলা ও গাফিলতির কারণে পরপর তিন জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।”
—সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৫০০; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১১২৫

অর্থাৎ, এমন ব্যক্তির অন্তর ধীরে ধীরে সত্য গ্রহণ থেকে দূরে সরে যেতে পারে এবং হেদায়াত থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আরেক বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া পরপর তিন জুমা ছেড়ে দেয়, সে ইসলামকে নিজের পেছনে ফেলে দেয়।”
—আবু ইয়ালা, হাদিস: ২৭১২


তবে এ কথার অর্থ এই নয় যে, তিন জুমা বাদ গেলেই সঙ্গে সঙ্গে কেউ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। বরং এটি জুমার নামাজের প্রতি অবহেলার ভয়াবহতা বোঝাতে বলা হয়েছে। একজন মুসলিমের উচিত দ্রুত তওবা করে নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া।


জুমার নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

“মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন।”
—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৯৮


হাদিসে জুমার নামাজের ফজিলত সম্পর্কে আরও এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে, পরিচ্ছন্ন হয়ে সুন্দর পোশাক পরে, মসজিদে গিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং নামাজ আদায় করে, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদি সে বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৩


ইসলামি বিধান অনুযায়ী কিছু মানুষের ওপর জুমার নামাজ ফরজ নয়। যেমন—অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির, নারী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ও দাস।

ইসলামি আলেমরা বলেন, নামাজ একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর একটি। তাই জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।