Ads

প্রবাসীদের সঞ্চয়-আবেগ নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিকল্পনা


28. 03. 26 

অনলাইন ডেস্ক।


📰 প্রবাসীদের সঞ্চয়-আবেগ নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিকল্পনা











প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশের লাখো মানুষের জীবনের একটাই বড় লক্ষ্য—নিজ দেশে ফিরে একটি স্বচ্ছল জীবন গড়া। বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, পরিবার থেকে দূরে থাকা, সীমাহীন ত্যাগ—


সবকিছুর পেছনে থাকে একটি স্বপ্ন: নিজের একটি সুন্দর বাড়ি। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই একটি বড় ভুল করে বসেন।


প্রবাসীরা দেশে ফিরে তাদের সঞ্চিত প্রায় পুরো অর্থ দিয়ে বড় ও দৃষ্টিনন্দন বিল্ডিং নির্মাণ করেন। বাইরে থেকে এই বাড়ি সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখা গেলেও, এর ভেতরের বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন হয়।


 কারণ, বাড়ি তৈরির পর হাতে আর কোনো অর্থ অবশিষ্ট থাকে না। ফলে জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা, বা দৈনন্দিন খরচ চালাতে গিয়ে তারা আর্থিক সংকটে পড়ে যান।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি বিল্ডিং কখনোই নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না—যদি না সেটি ভাড়ার উপযোগী বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত হয়।


 অন্যদিকে, একই অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি সাধারণ, বসবাসযোগ্য ঘর তৈরি করে বাকি অর্থ ব্যবসা, কৃষি, বা অন্য কোনো আয়ের উৎসে বিনিয়োগ করা হলে, তা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।


বাংলাদেশে অনেক সফল প্রবাসীর উদাহরণ রয়েছে, যারা দেশে ফিরে ছোট ব্যবসা শুরু করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছেন। কেউ করেছেন খামার, কেউ খুচরা ব্যবসা, আবার কেউ অনলাইন উদ্যোগ। এতে তারা শুধু নিজেরাই স্বচ্ছল হননি, বরং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছেন।


অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসীদের উচিত দেশে ফেরার আগেই একটি সুস্পষ্ট আর্থিক পরিকল্পনা করা। কত টাকা বাড়ির জন্য ব্যয় করবেন, কত টাকা সঞ্চয় রাখবেন, এবং কত টাকা বিনিয়োগ করবেন—এই তিনটি বিষয় ঠিক করে নেওয়া জরুরি। এতে করে ভবিষ্যতে হঠাৎ কোনো বিপদে পড়লেও তারা প্রস্তুত থাকতে পারবেন।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিকতা পরিবর্তন। সমাজে বড় বাড়ি দেখানোর প্রবণতা থেকে বের হয়ে এসে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। কারণ, জীবনের প্রকৃত স্বাচ্ছন্দ্য আসে নিয়মিত আয় ও নিরাপত্তা থেকে, শুধু বাহ্যিক চাকচিক্য থেকে নয়।


প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ তখনই সার্থক হয়, যখন তা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। তাই আবেগ নয়, পরিকল্পনা হোক প্রতিটি সিদ্ধান্তের ভিত্তি—এটাই এখন সময়ের দাবি।